Skip to main content

চরাচর

দুপুর শেষ হতে না হতেই কেমন রাতের মত অন্ধকার হয়ে গেল সব, একটা বিকেল হারানোর দুঃখে অথবা বাসায় কোনো দিয়াশলাই না থাকার অক্ষম রাগে শরীফ রাস্তায় বের হল এবং সাথে সাথেই সে বুঝতে পারল দেশে কোন একটা কিছু ঘটে গেছে যা সে মিস করে গেছে। রাগটা আরো বাড়ল সাথে খুব অল্প একটু মনের কোনায় লুকিয়ে থাকা ভয় বের হতে শুরু করল, সিগারেটের প্যাকেটে আধখাওয়া পোড়া সিগারেট কিংবা জয়েন্ট রেখে দিলে যেরকম বিশ্রী একটা গন্ধ হয়, সেরকম একটা গন্ধ শরীফের নাকে আসতে লাগল। রাগ আর ভয় খুব কাছাকাছি জিনিস, একটা আসলে আরেকটা বেশী দূরে থাকে না। দমকা একটা কালবৈশাখীর মত বাতাস এসে শরীফের বাচ্চাকালের অনেকগুলো স্মৃতি মাথায় ঝাপটা দিয়ে গেল। বাতাস তার জন্যে একটা ট্রিগারের মত, অনেক কিছু চলে আসে এ বাতাসের সাথে, দুলাইন কবিতাও লিখেছিল সে বাতাস নিয়ে
"এ বাতাসে মনে আসে সহস্র বছরের ক্লান্তি নিখাদ
শেষ বিকেলের মরা আলোয় ভেসে আসে অভিমান বিষাদ।"
খুবই অমৌলিক কবিতা, সে নিজে খুশী হতে পারে নি এটা লিখে কিন্তু তার দুয়েকজন বন্ধু যারা কবিতার কোনো ক ও বোঝে না, তারা খুব বলছে 'আরে মামা তোমারে দিয়া তো হবে, আইজ হোক কাইল হোক, তোমার কিছু একটা হবেই।' নিজের প্রশংসা শুনতে সবারই ভালো লাগে, শরীফেরও খুব ভালোই লাগতেছিল, নিজেরে কবি মনে হইতেছিল। জীবনের সকল সমস্যা, যন্ত্রনা, টানাটানি সব মনে হয় যেন কবি হইতে পারলে শেষ হয়ে যাবে অথবা সেগুলো আর সমাধান করার প্রয়োজন হবে না। 

কিন্তু প্রীতি তো কবিতায় একটুও ভিজলনা, মাইয়াটার কি আবেগ টাবেগ কিছু নাই নাকি, কবিতা দিয়াইতো একসময় সব প্রেম সফল বা অসফল শুরু হইত, কবিরা ছিল জাগতিক জিনিসপত্র ছাইড়া প্রেম ভালোবাসা জাতীয় বায়বীয় পদার্থে মেতে থাকার প্রতীক। হয়ত সঠিক লাইনটা প্রীতিরে শোনানো হয়নাই, হয়তো প্রীতিরে তার দাম, তার কাবিলিয়ত বোঝানোর মত কবিতা লিখতে পারে নাই শরীফ।

Comments

Popular posts from this blog

পাতার পর পাতা, ভরে গেছে খাতা

রাতগুলো দিন আর দিনগুলো রাত হয়ে গেছে, কর্মকান্ড হিসেব করলে দিন বলে কিছু নেই আর, পুরোটাই রাত অথবা পুরোটা সময় কাটে রাতের মত করে অথবা রাতের অপেক্ষায়। ঘুম আর জেগে থাকার ভেতরের খুব স্পষ্ট এবং খুব মজবুত দরজাটা ভেঙে গেছে, এখন পুরোটাই আধেক ঘুম, আধেক জাগা এক স্বপ্ন স্বপ্ন জগৎ। গান, কবিতা, উপন্যাস হয়তো নয় কিন্তু সব ভিজ্যুয়াল আর্ট এই জগাখিচুড়ী মগজে খুব ভালো খেলে, অনেক মূল্যবান মতামত সহসা পাওয়া যায় যা হয়তো সাধারন মেন্টাল স্টেটে সম্ভব হইতো না অথবা অনেক সময় লাগতো এবং অনেক ভাবনা চিন্তা করা লাগতো। কিন্তু এই অবস্থায় অথবা অবস্থানে গীটারের একটা নোট কিংবা আলোর সূক্ষ পরিবর্তন, সবই খুব স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করে, হয়তোবা বাস্তব জগতের চেয়ে একটু ধীরে চলে অথবা আমার কাছে প্রথাগত সময় হয়তো একটু স্লথ। নিশ্চিতভাবে এইটা জানার কোনো উপায় নাই আর সেইটাই এর মজা, অনিশ্চয়তার মাঝে এক নিরাপদ আবার হাল ছেড়ে দেওয়া নিশ্চয়তা। যাদুবাস্তবতার লেখকেরা কি এই অবস্থায় গিয়ে তাদের গল্পগুলো, গল্পের অলৌকিক উপাদানগুলো চাক্ষুষ দেখেছে?